প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) নিট মুনাফা বেড়েছে ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৩৬৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩০৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, চলতি হিসাব বছরের জুলাই-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ওয়ালটনের আয় হয়েছে ২ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ২ হাজার ৫৪৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ টাকা ১৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ টাকা ৪১ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় অতিরিক্ত খরচ বাড়েনি। এছাড়া পণ্য কেনা এবং মজুদ ব্যবস্থাপনা আরো সাশ্রয়ী ও কার্যকর হওয়ায় খরচ কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে মুনাফা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১৭৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ওয়ালটনের ইপিএস হয়েছে ৩৪ টাকা ২২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৪ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৯৯ টাকা ৭৪ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩৫০ শতাংশ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের ২০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৪৪ টাকা ৭৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৭৯ টাকা ৩০ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৩০০ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৯০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ওয়ালটন। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪০ টাকা ১৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৪৩ টাকা ৭৩ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
ওয়ালটন হাই-টেকের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।
দেশের পুঁজিবাজারে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন শুরু হয় ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর। কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩৩৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১১ হাজার ৩৭৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৩৩ কোটি ৩২ লাখ ২১ হাজার ১৭৭। এর ৬১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৭৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৮ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।